কাঁচা সোনা
আস্থার মায়াতেও বাঁধে মনেপ্রাণে, যক্ষের ধন ভেবে আগলে রাখে ঘনঘোর আঁধিয়ায়; ঝড় তুফানে! দিনশেষে তারেও মনে হয় বড্ড অজানা। অতঃপর যাপিতজীবনের অনুধ্যানই বলে পৃথিবীতে গিনিসোনার আদলে সবই কাঁচা সোনা!
বিষয়
আস্থার মায়াতেও বাঁধে মনেপ্রাণে, যক্ষের ধন ভেবে আগলে রাখে ঘনঘোর আঁধিয়ায়; ঝড় তুফানে! দিনশেষে তারেও মনে হয় বড্ড অজানা। অতঃপর যাপিতজীবনের অনুধ্যানই বলে পৃথিবীতে গিনিসোনার আদলে সবই কাঁচা সোনা!
মেদহীন এই ঝরঝরে বইটা পড়ে বিষণ্নতা চেপে বসেছে। কিন্তু তৃপ্তি আছে। কবিগুরুর মতো বলতে ইচ্ছে করে, শেষ হইয়াও হইল না শেষ। হয়তো মঞ্জুর উপন্যাস লেখা অধরা থেকে গেছে, কিন্তু হিমেল একদিন বিশ্বকে চেনাবে, ‘আমাদের একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছিলেন।’
কাচের জারে গোল্ডফিশ সেই শ্বাসেই তুলত ফুসফুসে ছোট ছোট বুদ্বুদ! যে বুদ্বুদের হাতেই মুখাগুন... চিতাসহ সবকিছু পুড়ে গেলেও পোড়েনি কেবল ওই কপাল ও ক্যাওলার কলঙ্ক!
লেখক ও পরিচালক ২০০৪ সালে বসে এই বিষয় নিয়ে ভেবেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ ধরনের প্রশ্ন উঠত বলেই তাঁরা ভেবেছেন। নারীকে অত্যাচারিত হয়ে পুরুষশাসিত সমাজের দাঁড় করানো এই অগ্নিপরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে যুগের পর যুগ। নারীকে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে চিরাচরিত সমাজের বানানো মাপকাঠিতেই, তাতে ব্যক্তিত্বের মানহানি ঘটেছে। তাতে ব্যক্তিত্বের মান বারবার লাঞ্ছিত হয়েছে।
যদি কখনো যাও আমার কবরের পাশে, জারুলের ঝরেপড়া পাতাগুলো একটু ভালোবেসে কুড়িয়ে দিয়ো। আমি তো আর কিছু চাইব না, নীরব মাটির গভীরে শুয়ে থাকব— কবরের শেওলাধরা নীরবতায়। শুধু জারুলের বেগুনি ফুল হয়ে তোমার পৃথিবীর কিনারায়,
অকারণে মনে হয়, এই বুঝি তুমি! কত অদ্ভুত, তাই না? যে মানুষটিকে চোখের সামনে আর কোনো দিন পাব না, তাকেই চোখের ভুলে প্রতিদিন খুঁজে ফিরি। তোমার জন্য রাখা চিঠিগুলো এখন আর চিঠি নয়—
সাত সকালে এত হইচইয়ের কারণ অন্বেষাকে নাকি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনে বারবার রিং হচ্ছে, কিন্তু রিসিভ করছে না। এতে মা, ছোট মামি আর মামাদের চেয়ে বড় মামির দুশ্চিন্তাই যেন বেশি। অযাচিত বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি আর পুরো বাড়ি মাথা তোলা তার পুরোনো স্বভাব। যদিও বিষয়টা মোটেও অহেতুক নয়; তবে অয়ন জানে তার বোন কোথায়।
১৯১০ সালে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ। এতে রয়েছে ১৫৭টি গীতিকবিতা। নামের মধ্যেই আছে নিবেদনের ইঙ্গিত। তবে গ্রন্থটিকে শুধু একটি বিশেষ ভাবনার পরিসরে সীমাবদ্ধ করে দেখলে এর সাহিত্যিক ব্যাপ্তি বোঝা কঠিন। এই কাব্যের কবিতায় যে আত্মজিজ্ঞাসা, মানবিকতা, সৌন্দর্যবোধ ও জীবনদর্শন প্রকাশ পেয়েছে, তা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো সংবেদনশীল পাঠককে স্পর্শ করতে পারে।
কথা ছিল একসাথে মেলাব সব সমীকরণ, অথচ শেষে পড়ে রইল কেবলই শূন্যস্থান! নক্ষত্র ঝরে পড়ে নিঝুম আঁধারে, হাওয়ায় হাওয়ায় মেশে অনুভূতির শূন্যস্থান। তুমি তো হারিয়ে গেছ দূর কোনো দিগন্তে, আর আমার আয়ু জুড়ে থেকে গেল এই শূন্যস্থান!
প্রতিবারই সুজয় ভেবেছে, আজ বলব। সেই ‘আজ’ আর আসেনি। কখনো অফিসের ব্যস্ততা, কখনো নিতুর মন খারাপ, কখনো নিজের ভয়—সবকিছু মিলিয়ে কথাটা গলার কাছেই আটকে থাকত। সুজয়ের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, কথাটা বলার পর সে যদি দূরে সরে যায়? যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়! তাকে যদি অবিশ্বাস করা শুরু করে?
তাঁর সাহিত্য পড়লে দ্বিতীয় প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। তিনি সাম্প্রদায়িক বিভাজন, জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লিখেছেন। তাঁর কবিতা ও গানে যেমন ইসলামি ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আছে, তেমনি আছে হিন্দু পুরাণের দেবদেবী, শ্যামাসংগীতের আবহ এবং নানা ধর্মীয় সংস্কৃতির উপাদান।
আগামী বছর নতুন বন্ধু খোঁজার দিবসে বন্ধুসভায় যাওয়ার আগে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার দিয়ে পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা আর প্রোগ্রামে মনোপযুক্ত ঝাকানাকা ছবি তুলে দেওয়ার আশ্বাস রেখে সব লিখে একটি সিভি বানিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে যাবা। শিরোনাম হবে: ‘বন্ধু পদে আগ্রহী প্রার্থী’।
তবু কিবোর্ডের আড়ালে জমে থাকা এই না-বলা হরফগুলো, একদিন হয়তো ভেঙে ফেলবে তোমার সব অলিখিত অনুশাসন। যন্ত্রবৎ পায়ের তলায় ফেটে চৌচির হবে এই পিচঢালা খাঁচা, শৃঙ্খল ছিঁড়ে রক্তে ভেসে উঠবে আমার বেঁচে থাকার নাম। একদিন হয়তো সব ব্যাকস্পেস মুছে যাবে, থেমে যাবে এই বাধ্য চরণের হাঁটা; সেদিন কি তুমি পাবে তোমার কাঙ্ক্ষিত জয়, নাকি শূন্যতায় ঢাকা পড়বে এই মিথ্যে নিয়ন্ত্রণ?
১৯৯৮ সালের কথা। আমেরিকার নিউইয়র্কে কনসার্ট করতে গিয়েছিলেন। কনসার্ট শেষে এলআরবি ব্যান্ডের সদস্যদের নিয়ে একটা শপিং মলে ঢোকেন। বড় একটা গিটারের দোকানে গিয়ে গিটারগুলো দেখেন। আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের প্রতি দারুণ আসক্তি। নতুন ব্র্যান্ডের গিটার দেখলে হাতে নিয়ে দেখতে চাইতেন।
রহিম কোনো কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে ঘড়িটি খুললেন। ভেতরের জংধরা কলকবজাগুলো একে একে পরিষ্কার করলেন, নতুন স্প্রিং বসালেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে বন্ধ থাকা ঘড়িটি আবার প্রাণ ফিরে পেল—‘টিক... টিক... টিক...’।
আমরা জানি না। হয়তো কোনো দিন জানবও না। শুধু ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার কথা। আর সেই ভয়াবহতার ভেতরেও বেঁচে থাকবে এক কিশোরীর ছোট ছোট স্বপ্ন, ভালোবাসা, ভয় এবং একটি স্বাভাবিক জীবনের জন্য তার আকুলতা।
আমি স্তম্ভিত, বিস্মিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় জানি না কী করব, কী বলব, এমন সময় আমার হাত ধরলে তুমি, মহাজাগতিক এক তরঙ্গ বয়ে গেল। সেখান থেকেই সৃষ্টির শুরু, সেখানেই হবে ধ্বংস
বাবা কাগজটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ উল্টেপাল্টে দেখলেন। বাবা ইংরেজির এক বর্ণও জানেন না, কিন্তু গম্ভীর মুখ করে এমনভাবে পড়লেন যেন প্রতিটি শব্দ তাঁর মুখস্থ। ‘হুম। ভালো, ভালো। অক্ষরগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে খাঁটি মাল।’
মেসি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেসিনের দিকে এগিয়ে গেলেন বন্ধু রবিনকে নিয়ে। মনে মনে ভাবলেন, এমবাপ্পে বা নেইমারকে কাটানো যতটা সহজ, রোববারের বিকেলে গৃহস্থালি দায়িত্ব কাটানো তার চেয়েও কঠিন!
গাঁয়ের উত্তর পাড়ায় ছিল ফিরোজদের বাড়ি। বয়সে সেলিনার সমান। নদীতে মাছ ধরা কিংবা অন্যের জমিতে কাজ করা ছিল তার পেশা। সুযোগ পেলেই সেলিনাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরঘুর করা ছিল নেশা। প্রথম প্রথম ফিরোজকে দেখে সেলিনা বিরক্ত হতো। কিন্তু কখন যে ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটার প্রতি সেই বিরক্তিই মায়ায় পরিণত হলো, তা সে নিজেও জানে না।